দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই নিম্নমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি মোট লেনদেন কমেছে ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে ব্যাংক, সাধারণ বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১১৪ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য কমে ১ হাজার ১৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৭১ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ২২৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির বাজারদর। লেনদেন হয়নি ১৮টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৪ হাজার ১৯৪ কোটি ৩২ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন কমেছে ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থান দখল করেছিল প্রকৌশল খাত।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ব্যাংক খাতে শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন ছিল সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে জীবন বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ ও করপোরেট বন্ড খাতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ২০২ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩২৬ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮১ কোটি ৮১ লাখ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬০টির, কমেছে ১৩৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির বাজারদর।